ঢাকা ০৭:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

৬০ হাজার হাজীদের নিয়ে আজ পবিত্র হজ্জ পালিত হচ্ছে

পবিত্র নগরী মক্কা’য় আজ ৬০ হাজার ধর্মপ্রাণ হাজীদের নিয়ে পবিত্র হজ্জ পালিত হচ্ছে। মুসলমানদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। পাপমুক্তি ও আত্মশুদ্ধির আকুল বাসনা নিয়ে সৌদিআরবে থাকা ১৫০টি দেশের নাগরিকসহ পবিত্র হজ পালন করছেন সেদেশের ভাগ্যবান হাজীরা। লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক্ লা শারিকা লাকা (আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই। সব সাম্রাজ্য তোমার) ধ্বনিতে আজ সোমবার মুখরিত হবে আরাফাতের ময়দান।
ধবধবে সাদা দু’টুকরো কাপড় পরে ইহরাম অবস্থায় আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় সূর্যোদয়ের পরই হজযাত্রীরা মিনা থেকে রওনা হন আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশ্যে। হজের তিন ফরজের মধ্যে ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। হজযাত্রীরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পবিত্র এ স্থানে অবস্থান করবেন। কেউ পাহাড়ের কাছে, কেউ এবাদত করবেন সুবিধাজনক জায়গায় বসে। আরাফাতের মসজিদে নামিরাহ থেকে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার পর হজের খুতবা দেবেন মক্কার মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. বান্দার বিন আবদুল আজিজ বালিলা। এবছরও আরবিসহ থাকছে ১০ ভাষার খুতবা। দ্বিতীয় বারের মতো হজের খুতবা বাংলায় অনুবাদ করা হবে। খুতবা শেষে হজযাত্রীরা জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে আল্লাহর জিকির আসকারে ব্যস্ত থাকবেন তারা। এরপর হজযাত্রীদের গন্তব্য মুজদালিফার দিকে। মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করে সেখানেই রাতযাপন করবেন। মুজদালিফা থেকে পাথর সংগ্রহ করে তারা পুনরায় মিনায় ফিরবেন। ১০ জিলহজ সেখানে পৌঁছার পর হজযাত্রীদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হবে। প্রথমে মিনাকে ডানদিকে রেখে দাঁড়িয়ে শয়তানকে (জামারা) পাথর নিক্ষেপ। এরপর দ্বিতীয় কাজ আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কুরবানি।
তৃতীয় পর্ব মাথা ন্যাড়া করা। আর চতুর্থ কাজ তাওয়াফে জিয়ারত। হজযাত্রীরা মক্কায় ফিরে কাবা শরীফ তাওয়াফ ও সায়ি (কাবার চারদিকে সাতবার ঘোরা ও সাফা মারওয়া পাহাড়ে সাতবার দৌড়ানো) করে পুনরায় মিনায় ফিরে যাবেন। ১১ জিলহজ সেখানকার খিমায় (তাবু) রাতযাপন। দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্তের মধ্যে বড়, মধ্যম ও ছোট শয়তানের ওপর সাতটি করে মোট ২১টি পাথর নিক্ষেপ করবেন। এ কাজটি অবশ্যই সুন্নত। পরদিন ১২ জিলহজ মিনায় অবস্থান করে পুনরায় একইভাবে তিনটি শয়তানের ওপর নিক্ষেপ করবেন সাতটি করে মোট ২১টি পাথর। এ কাজ শেষ হলে অনেকে সূর্যাস্তের আগেই মিনা ছেড়ে মক্কায় চলে যান।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

৬০ হাজার হাজীদের নিয়ে আজ পবিত্র হজ্জ পালিত হচ্ছে

আপডেট সময় ০১:৩৭:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জুলাই ২০২১

পবিত্র নগরী মক্কা’য় আজ ৬০ হাজার ধর্মপ্রাণ হাজীদের নিয়ে পবিত্র হজ্জ পালিত হচ্ছে। মুসলমানদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। পাপমুক্তি ও আত্মশুদ্ধির আকুল বাসনা নিয়ে সৌদিআরবে থাকা ১৫০টি দেশের নাগরিকসহ পবিত্র হজ পালন করছেন সেদেশের ভাগ্যবান হাজীরা। লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক্ লা শারিকা লাকা (আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই। সব সাম্রাজ্য তোমার) ধ্বনিতে আজ সোমবার মুখরিত হবে আরাফাতের ময়দান।
ধবধবে সাদা দু’টুকরো কাপড় পরে ইহরাম অবস্থায় আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় সূর্যোদয়ের পরই হজযাত্রীরা মিনা থেকে রওনা হন আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশ্যে। হজের তিন ফরজের মধ্যে ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। হজযাত্রীরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পবিত্র এ স্থানে অবস্থান করবেন। কেউ পাহাড়ের কাছে, কেউ এবাদত করবেন সুবিধাজনক জায়গায় বসে। আরাফাতের মসজিদে নামিরাহ থেকে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার পর হজের খুতবা দেবেন মক্কার মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. বান্দার বিন আবদুল আজিজ বালিলা। এবছরও আরবিসহ থাকছে ১০ ভাষার খুতবা। দ্বিতীয় বারের মতো হজের খুতবা বাংলায় অনুবাদ করা হবে। খুতবা শেষে হজযাত্রীরা জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে আল্লাহর জিকির আসকারে ব্যস্ত থাকবেন তারা। এরপর হজযাত্রীদের গন্তব্য মুজদালিফার দিকে। মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করে সেখানেই রাতযাপন করবেন। মুজদালিফা থেকে পাথর সংগ্রহ করে তারা পুনরায় মিনায় ফিরবেন। ১০ জিলহজ সেখানে পৌঁছার পর হজযাত্রীদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হবে। প্রথমে মিনাকে ডানদিকে রেখে দাঁড়িয়ে শয়তানকে (জামারা) পাথর নিক্ষেপ। এরপর দ্বিতীয় কাজ আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কুরবানি।
তৃতীয় পর্ব মাথা ন্যাড়া করা। আর চতুর্থ কাজ তাওয়াফে জিয়ারত। হজযাত্রীরা মক্কায় ফিরে কাবা শরীফ তাওয়াফ ও সায়ি (কাবার চারদিকে সাতবার ঘোরা ও সাফা মারওয়া পাহাড়ে সাতবার দৌড়ানো) করে পুনরায় মিনায় ফিরে যাবেন। ১১ জিলহজ সেখানকার খিমায় (তাবু) রাতযাপন। দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্তের মধ্যে বড়, মধ্যম ও ছোট শয়তানের ওপর সাতটি করে মোট ২১টি পাথর নিক্ষেপ করবেন। এ কাজটি অবশ্যই সুন্নত। পরদিন ১২ জিলহজ মিনায় অবস্থান করে পুনরায় একইভাবে তিনটি শয়তানের ওপর নিক্ষেপ করবেন সাতটি করে মোট ২১টি পাথর। এ কাজ শেষ হলে অনেকে সূর্যাস্তের আগেই মিনা ছেড়ে মক্কায় চলে যান।