ঢাকা ১২:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

আন’নিয়ামাহ উইমেন্স এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের অর্থায়নে বিশ্বনাথে রামাদান ফ্যামিলি ফুড প্যাক বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক- আন্-নি’য়ামাহ উইমেন্স এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে’র অর্থায়নে ও ট্রাস্টের বাংলাদেশ শাখা এবং জামেয়া ইসলামিয়া হাজী আব্দুছ ছাত্তার মহিলা মাদরাসা শিমুল তলার সার্বিক তত্বাবধানে ও ব্যবস্থাপনায় ৭তম বারের মতো করোনা ক্রাইসিস ও পবিত্র রমাদ্বান ফ্যামিলি ফুড প্যাক বিতরণ অনুষ্ঠান মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে সোমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আর্থ সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে সন্তানের প্রধান হক্ব দ্বীনদার “মা”তৈরী করে প্রতিটি ঘর কে জান্নাতের টুকরায় পরিণত করা আমাদের মূল লক্ষ্য।
উক্ত ট্রাস্ট এলাকার আর্থ সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজও চালিয়ে যাচ্ছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রজেক্টগুলো হল হাউজিং, চিকিৎসা, গরীব পরিবারকে সাবলম্বী করা,কুরবানী প্রজেক্ট ও হলী রমাদ্বান ফ্যামেলি ফুড প্যাক সহ আরোও অনেক কিছু।
করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাবে এ বছর স্বল্প আয়ের মানুষগুলো আরো বেশি অসহায় হয়ে পড়েছে। তাই আন্-নি’য়ামাহ উইমেন্স এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে’র অর্থায়নে ৭ তম বারের মতো জামেয়া ইসলামিয়া হাজী আঃছাত্তার মহিলা মাদ্রাসা শিমুল তলা ও জুলেখা মাদারিছুল উম্মাহাত(বয়স্কা মহিলা মাদ্রাসা)’র ২১৫ জন ছাত্রী পরিবারের মধ্যে প্রায় ৫০ কেজি ওজনের রমাদ্বান ফ্যামেলি ফুড প্যাক বিতরণ করা হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মজলিশে শুরার নায়েবে ছদর অত্র মাদরাসার রুম ডনার, বিশ্বনাথ বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব আঃ মানিক সাহেব।
আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাদরাসায় এক কিয়ার জমি দানকারী মজলিশে শুরার নায়েবে ছদর আলহাজ্ব আনওয়ার হোসাইন সাহেব।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হযরত মাওলানা কামরুল ইসলাম ছমির সাহেব দা:বা:, মহাপরিচালক জামেয়া মাদানিয়া ক্বওমিয়া মহিলা মাদরাসা বিশ্বনাথ।
বিশেষ অতিথি হযরত মাওলানা ফয়জুর রহমান সাহেব দা:বা: , মুহাদ্দিস ও নায়েবে মুহতামিম জামেয়া মুহাম্মদিয়া আরাবিয়া বিশ্বনাথ।
প্রধান মেহমান হযরত মাওলানা তালিব উদ্দিন সাহেব দা:বা: মুহাদ্দিস ও নায়েবে নাজিম জামেয়া তাওয়াক্কুলিয়া রেঙ্গা সিলেট । উপস্থিত ছিলেন মাদরাসার ট্রেজারার আলহাজ্ব আঃ রহমান সাহেব, সেক্রেটারি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জনাব আকবর হোসেন কিসমত, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফয়জুল হোসাইন বজলু,সুহেল আহমদ,কামাল হোসেন ও আরশ আলীসহ আরোও অনেক ছাত্রী গার্জিয়ান উপস্থিত। এতবড় ওযনের ফুড প্যাকেজ নিতে গার্জিয়ানরা ছাত্রীদের সাহায্য করায় আমরা তাদের শুকরিয়া আদায় করছি। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন যৌথভাবে এস,এন,বি চ্যানেল এর পরিচালক এ কে এম তুহেম ও হা: মাওলানা রেজাউল হক রাজু সাহেব। অনুষ্ঠানের শুরুতে কালামে পাক থেকে তিলাওয়াত করেন অত্র মাদরাসার ছাত্রী সুমাইয়া বেগম অপি।
সুচনা মূলক বক্তব্য রাখেন আলহাজ্ব আনওয়ার হোসাইন সাহেব। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মাওলানা সালিম আহমদ, নায়েবে মুহতামিম অত্র জামেয়া। আনওয়ার হোসেন সাহেব তাঁর বক্তব্যে বলেন: স্যার কিভাবে তাঁর ছাত্র জীবন থেকে নিবেদিত প্রাণ হয়ে তাঁর প্রিয় শিমুল তলা গ্রামের সার্বিক উন্নয়ন বিশেষ করে প্রায় নিরক্ষর গ্রামকে শিক্ষিত করা ও একা নয় সকলকে নিয়ে সমাজে এগিয়ে যাওয়া এসবকে মাথায় নিয়ে হিলফুল ফুজুল অনুসরণে যুবকদের নিয়ে সোনালী যুব সংঘ প্রতিষ্টা করে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন নতুন কুঁড়ি প্রাইমারী স্কুল গ্রামের সবাইকে উদ্ভুদ্ধ করে ১৯৮০ সালে প্রতিষ্টা করেন।জনাব আনওয়ার হোসেন সাহেব উল্লেখ করেন যে,স্যার নিজ পরিবারের কথা চিন্তা না করে রাম সুন্দর থেকে তাঁর বেতনের টাকা এনে তাঁর প্রাণ প্রিয় নতুন কুঁড়ির ৪ জন শিক্ষকের বেতন দিতেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে,স্যার যে কাজে হাত দিতেন সে কাজের সফলতা না আসা পর্যন্ত তিনি থামতেন না, তিনি তাঁর সব মেধা ও অর্থ ঢেলে দিতেন। এ গ্রামের উন্নয়ণের ধারা প্রথম তিনিই আরম্ভ করেন। কালের সাক্ষী হয়ে গ্রামের রাস্তা,পুল ও কালবার্ট ইতিহাস হয়ে আছে এবং থাকবে মহান আল্লাহর খাতায় কেউ স্বীকার না করলেও। প্রধান অতিথি মাওলানা কামরুল ইসলাম ছমির সাহেব তাঁর বক্তব্যে বলেন: এই মাদরাসাকে সুন্দর ও সুচারুরূপে পরিচালনা করার জন্য জেনারেল শিক্ষিত জনাব আবুল হাশেম বি.এস. সি স্যার চেষ্টা করে যাচ্ছেন এবং তাঁহার চেষ্টায় বিদেশ থেকে অনেক মাদরাসা এাণ পায়।যেভাবে পুরুষদের জন্য দ্বীন শিক্ষা করা ফরজ তারা বিভিন্ন মাদরাসায় গিয়ে তা শিক্ষা করে। তেমনিভাবে মহিলাদেরও দ্বীন শিক্ষা করা ফরজ ও দ্বীনি মাসআলা- মাসায়েল বেশি জানা জরুরী। এসব মাসআলা- মাসায়েল মাদরাসায় শিক্ষা দেওয়া হয়। আর এ মহিলা মাদরাসাসহ সব দ্বীনি প্রতিষ্ঠান এর সাহায্যে যেন সারা বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে পবিত্র কোরআন শিক্ষার আওয়াজ চালু হয়। সুতরাং বি.এস.সি স্যার এর চেষ্টায় ও আরো যত ভাই -বোন দ্বীনি কাজে সাহায্য -সহযোগিতা করতেছেন এবং আজকেও করছেন। আল্লাহ তা’য়ালা তা যেন সদকায়ে জারিয়া হিসেবে কবুল করে নেন এবং এ মাদরাসা সহ সব মাদরাসাকে আল্লাহ করোনা ভাইরাস থেকে হেফাজত করেন এবং উলামায়ে কেরামদের হেফাজত করেন।
বিশেষ অতিথি মাওলানা ফয়জুর রহমান সাহেব তাঁর বক্তব্যে বলেন: এই মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব বি.এস.সি স্যার যদিও একজন জেনারেল শিক্ষিত মানুষ তিনি বিশ্বনাথসহ সারা বিশ্বে একজন পরিচিত মানুষ। উনার মাধ্যমে এই উভয় মহিলা মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তাঁর মাধ্যমে বিভিন্ন মানুষকে অনেক ভাবে দান করা হয়ে থাকে। তিনি অনেক সামাজিক অনুষ্ঠান করাণ, চিকিৎসা বাবত অনেকেও দান করেন। আর এ মহিলা মাদরাসার যে সব ছাত্রীরা এতিম, গরিব ও অভাবী তাদের সম্পূর্ণ ফ্রি লেখা -পড়ার ব্যবস্তা করেন। আজও তিনি যারা অভাবী তারা যেন রমাদ্বান মাসে কিছুটা হলেও ভাল খাবার খেতে পারেন তার জন্য আজকের এ বিশাল অনুদান এর আয়োজন করেছেন। তিনি আরও বলেন, যে ব্যক্তি বান্দার কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না সে আল্লাহরও কৃতজ্ঞতা স্বীকার করবে না। এ জন্য আমি আবুল হাশেম বি.এস.সি স্যার এর কৃতজ্ঞতা আদায় করছি। সাথে সাথে প্রবাসের যে সব ভাই- বোনেরা সাহায্য করেছেন তাদের ধন্যবাদ জানাই এবং আল্লাহ তা’য়ালা যেন তাদের এই দানকে কবুল করেন। আর আমাদের সবাইকে এ ধরনের মহতি কাজে সহযোগিতা করার তাওফিক দান করেন।
প্রধান মেহমান মাওলানা তালিব উদ্দিন সাহেব তাঁর বক্তব্যে বলেন: আমরা এমন একটি অনুষ্ঠানে শরিক হয়েছি যেখানে প্রতিটি অস্বচ্ছল পরিবারকে স্বচ্ছলতা দানের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, আমি আবুল হাশেম বি. এস. সি স্যারের বিরল কর্মযোগ্য শুনে আশ্চর্যাম্বিত হয়েছি যে, তিনি একজন জেনারেল শিক্ষিত মানুষ ইংল্যান্ডের বইরি পরিবেশে থেকেও তাবলিগের মেহনতের সাথে নিজেকে জড়িয়ে এ এলাকার আর্থ সামাজিক উন্নয়নে এবং প্রতিটি পরিবারে দ্বীনি মশাল জ্বালিয়ে দেওয়ার জন্য দ্বীনি চিন্তা ও আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছেন এ সমস্ত দ্বীনি কর্মকান্ড এর মাধ্যমে। তিনি আমাদের জন্য ও এ প্রজন্ম এর জন্য মাইল ফলক হয়ে থাকবেন অনন্তকাল। আল্লাহ পাক তাঁর এ বান্দাকে দ্বীনের একনিষ্ঠ খাদিম হিসেবে কবুল করুন। আমরা অত্যান্ত গর্বের সাথে বলতে পারি এরকম যদি প্রতিটি অঞ্চলে এক একজন বি.এস.সি স্যার দাড়িয়ে যান,তাহলে এলাকার আমূল পরিবর্তনের জন্য এবং বদদ্বীনি খতম করে দ্বীনি পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য তিনিই যতেষ্ট। আলহামদুলিল্লাহ, সালাহউদ্দীন আইয়ুবী(রঃ)এর উত্তরসূরির ভূমিকায় আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর নাম লিখে দিন। তিনি আর বলেন এই করোনা কালিন সময়ে দারিদ্র সীমার নিম্ন দেশে প্রায় ৫০ কেজি ওযনের নিত্য প্রয়োজনিয় জিনিস ২১৫ টি পরিবারকে প্রদান করা হবে। নিজের স্বার্থ ও প্রয়োজনকে বির্সজন দিয়ে এই এলাকার মানুষের জন্য যে সম্পদ ব্যয় করছেন। অত্র আয়াতে আল্লাহ তায়ালা তাদের প্রশংসা করে বলেন, এরা মানুষের খাদ্য জোগায় আল্লাহর মহব্বতে মিসকিনদের ও এতিমদের এবং বন্দিদের জন্য। তিনি আরও বলেন এতবড় প্যাকেজ যে একজন মহিলা বা ছাত্রী একা নিয়ে যেতে পারবে না অন্যের সাহায্য ছাড়া। এতবড় প্যাকেজ কোন অঞ্চলে দেওয়া হয় আমার জানা নেই। আল্লাহ তাঁদের আরো বিত্তবান করে দেন আমিন।
রমাদ্বান ফ্যামেলি ফুড প্যাকে যা প্রদান করা হয়।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

আন’নিয়ামাহ উইমেন্স এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের অর্থায়নে বিশ্বনাথে রামাদান ফ্যামিলি ফুড প্যাক বিতরণ

আপডেট সময় ১০:৫৬:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক- আন্-নি’য়ামাহ উইমেন্স এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে’র অর্থায়নে ও ট্রাস্টের বাংলাদেশ শাখা এবং জামেয়া ইসলামিয়া হাজী আব্দুছ ছাত্তার মহিলা মাদরাসা শিমুল তলার সার্বিক তত্বাবধানে ও ব্যবস্থাপনায় ৭তম বারের মতো করোনা ক্রাইসিস ও পবিত্র রমাদ্বান ফ্যামিলি ফুড প্যাক বিতরণ অনুষ্ঠান মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে সোমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আর্থ সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে সন্তানের প্রধান হক্ব দ্বীনদার “মা”তৈরী করে প্রতিটি ঘর কে জান্নাতের টুকরায় পরিণত করা আমাদের মূল লক্ষ্য।
উক্ত ট্রাস্ট এলাকার আর্থ সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজও চালিয়ে যাচ্ছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রজেক্টগুলো হল হাউজিং, চিকিৎসা, গরীব পরিবারকে সাবলম্বী করা,কুরবানী প্রজেক্ট ও হলী রমাদ্বান ফ্যামেলি ফুড প্যাক সহ আরোও অনেক কিছু।
করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাবে এ বছর স্বল্প আয়ের মানুষগুলো আরো বেশি অসহায় হয়ে পড়েছে। তাই আন্-নি’য়ামাহ উইমেন্স এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে’র অর্থায়নে ৭ তম বারের মতো জামেয়া ইসলামিয়া হাজী আঃছাত্তার মহিলা মাদ্রাসা শিমুল তলা ও জুলেখা মাদারিছুল উম্মাহাত(বয়স্কা মহিলা মাদ্রাসা)’র ২১৫ জন ছাত্রী পরিবারের মধ্যে প্রায় ৫০ কেজি ওজনের রমাদ্বান ফ্যামেলি ফুড প্যাক বিতরণ করা হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মজলিশে শুরার নায়েবে ছদর অত্র মাদরাসার রুম ডনার, বিশ্বনাথ বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব আঃ মানিক সাহেব।
আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাদরাসায় এক কিয়ার জমি দানকারী মজলিশে শুরার নায়েবে ছদর আলহাজ্ব আনওয়ার হোসাইন সাহেব।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হযরত মাওলানা কামরুল ইসলাম ছমির সাহেব দা:বা:, মহাপরিচালক জামেয়া মাদানিয়া ক্বওমিয়া মহিলা মাদরাসা বিশ্বনাথ।
বিশেষ অতিথি হযরত মাওলানা ফয়জুর রহমান সাহেব দা:বা: , মুহাদ্দিস ও নায়েবে মুহতামিম জামেয়া মুহাম্মদিয়া আরাবিয়া বিশ্বনাথ।
প্রধান মেহমান হযরত মাওলানা তালিব উদ্দিন সাহেব দা:বা: মুহাদ্দিস ও নায়েবে নাজিম জামেয়া তাওয়াক্কুলিয়া রেঙ্গা সিলেট । উপস্থিত ছিলেন মাদরাসার ট্রেজারার আলহাজ্ব আঃ রহমান সাহেব, সেক্রেটারি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জনাব আকবর হোসেন কিসমত, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফয়জুল হোসাইন বজলু,সুহেল আহমদ,কামাল হোসেন ও আরশ আলীসহ আরোও অনেক ছাত্রী গার্জিয়ান উপস্থিত। এতবড় ওযনের ফুড প্যাকেজ নিতে গার্জিয়ানরা ছাত্রীদের সাহায্য করায় আমরা তাদের শুকরিয়া আদায় করছি। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন যৌথভাবে এস,এন,বি চ্যানেল এর পরিচালক এ কে এম তুহেম ও হা: মাওলানা রেজাউল হক রাজু সাহেব। অনুষ্ঠানের শুরুতে কালামে পাক থেকে তিলাওয়াত করেন অত্র মাদরাসার ছাত্রী সুমাইয়া বেগম অপি।
সুচনা মূলক বক্তব্য রাখেন আলহাজ্ব আনওয়ার হোসাইন সাহেব। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মাওলানা সালিম আহমদ, নায়েবে মুহতামিম অত্র জামেয়া। আনওয়ার হোসেন সাহেব তাঁর বক্তব্যে বলেন: স্যার কিভাবে তাঁর ছাত্র জীবন থেকে নিবেদিত প্রাণ হয়ে তাঁর প্রিয় শিমুল তলা গ্রামের সার্বিক উন্নয়ন বিশেষ করে প্রায় নিরক্ষর গ্রামকে শিক্ষিত করা ও একা নয় সকলকে নিয়ে সমাজে এগিয়ে যাওয়া এসবকে মাথায় নিয়ে হিলফুল ফুজুল অনুসরণে যুবকদের নিয়ে সোনালী যুব সংঘ প্রতিষ্টা করে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন নতুন কুঁড়ি প্রাইমারী স্কুল গ্রামের সবাইকে উদ্ভুদ্ধ করে ১৯৮০ সালে প্রতিষ্টা করেন।জনাব আনওয়ার হোসেন সাহেব উল্লেখ করেন যে,স্যার নিজ পরিবারের কথা চিন্তা না করে রাম সুন্দর থেকে তাঁর বেতনের টাকা এনে তাঁর প্রাণ প্রিয় নতুন কুঁড়ির ৪ জন শিক্ষকের বেতন দিতেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে,স্যার যে কাজে হাত দিতেন সে কাজের সফলতা না আসা পর্যন্ত তিনি থামতেন না, তিনি তাঁর সব মেধা ও অর্থ ঢেলে দিতেন। এ গ্রামের উন্নয়ণের ধারা প্রথম তিনিই আরম্ভ করেন। কালের সাক্ষী হয়ে গ্রামের রাস্তা,পুল ও কালবার্ট ইতিহাস হয়ে আছে এবং থাকবে মহান আল্লাহর খাতায় কেউ স্বীকার না করলেও। প্রধান অতিথি মাওলানা কামরুল ইসলাম ছমির সাহেব তাঁর বক্তব্যে বলেন: এই মাদরাসাকে সুন্দর ও সুচারুরূপে পরিচালনা করার জন্য জেনারেল শিক্ষিত জনাব আবুল হাশেম বি.এস. সি স্যার চেষ্টা করে যাচ্ছেন এবং তাঁহার চেষ্টায় বিদেশ থেকে অনেক মাদরাসা এাণ পায়।যেভাবে পুরুষদের জন্য দ্বীন শিক্ষা করা ফরজ তারা বিভিন্ন মাদরাসায় গিয়ে তা শিক্ষা করে। তেমনিভাবে মহিলাদেরও দ্বীন শিক্ষা করা ফরজ ও দ্বীনি মাসআলা- মাসায়েল বেশি জানা জরুরী। এসব মাসআলা- মাসায়েল মাদরাসায় শিক্ষা দেওয়া হয়। আর এ মহিলা মাদরাসাসহ সব দ্বীনি প্রতিষ্ঠান এর সাহায্যে যেন সারা বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে পবিত্র কোরআন শিক্ষার আওয়াজ চালু হয়। সুতরাং বি.এস.সি স্যার এর চেষ্টায় ও আরো যত ভাই -বোন দ্বীনি কাজে সাহায্য -সহযোগিতা করতেছেন এবং আজকেও করছেন। আল্লাহ তা’য়ালা তা যেন সদকায়ে জারিয়া হিসেবে কবুল করে নেন এবং এ মাদরাসা সহ সব মাদরাসাকে আল্লাহ করোনা ভাইরাস থেকে হেফাজত করেন এবং উলামায়ে কেরামদের হেফাজত করেন।
বিশেষ অতিথি মাওলানা ফয়জুর রহমান সাহেব তাঁর বক্তব্যে বলেন: এই মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব বি.এস.সি স্যার যদিও একজন জেনারেল শিক্ষিত মানুষ তিনি বিশ্বনাথসহ সারা বিশ্বে একজন পরিচিত মানুষ। উনার মাধ্যমে এই উভয় মহিলা মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তাঁর মাধ্যমে বিভিন্ন মানুষকে অনেক ভাবে দান করা হয়ে থাকে। তিনি অনেক সামাজিক অনুষ্ঠান করাণ, চিকিৎসা বাবত অনেকেও দান করেন। আর এ মহিলা মাদরাসার যে সব ছাত্রীরা এতিম, গরিব ও অভাবী তাদের সম্পূর্ণ ফ্রি লেখা -পড়ার ব্যবস্তা করেন। আজও তিনি যারা অভাবী তারা যেন রমাদ্বান মাসে কিছুটা হলেও ভাল খাবার খেতে পারেন তার জন্য আজকের এ বিশাল অনুদান এর আয়োজন করেছেন। তিনি আরও বলেন, যে ব্যক্তি বান্দার কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না সে আল্লাহরও কৃতজ্ঞতা স্বীকার করবে না। এ জন্য আমি আবুল হাশেম বি.এস.সি স্যার এর কৃতজ্ঞতা আদায় করছি। সাথে সাথে প্রবাসের যে সব ভাই- বোনেরা সাহায্য করেছেন তাদের ধন্যবাদ জানাই এবং আল্লাহ তা’য়ালা যেন তাদের এই দানকে কবুল করেন। আর আমাদের সবাইকে এ ধরনের মহতি কাজে সহযোগিতা করার তাওফিক দান করেন।
প্রধান মেহমান মাওলানা তালিব উদ্দিন সাহেব তাঁর বক্তব্যে বলেন: আমরা এমন একটি অনুষ্ঠানে শরিক হয়েছি যেখানে প্রতিটি অস্বচ্ছল পরিবারকে স্বচ্ছলতা দানের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, আমি আবুল হাশেম বি. এস. সি স্যারের বিরল কর্মযোগ্য শুনে আশ্চর্যাম্বিত হয়েছি যে, তিনি একজন জেনারেল শিক্ষিত মানুষ ইংল্যান্ডের বইরি পরিবেশে থেকেও তাবলিগের মেহনতের সাথে নিজেকে জড়িয়ে এ এলাকার আর্থ সামাজিক উন্নয়নে এবং প্রতিটি পরিবারে দ্বীনি মশাল জ্বালিয়ে দেওয়ার জন্য দ্বীনি চিন্তা ও আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছেন এ সমস্ত দ্বীনি কর্মকান্ড এর মাধ্যমে। তিনি আমাদের জন্য ও এ প্রজন্ম এর জন্য মাইল ফলক হয়ে থাকবেন অনন্তকাল। আল্লাহ পাক তাঁর এ বান্দাকে দ্বীনের একনিষ্ঠ খাদিম হিসেবে কবুল করুন। আমরা অত্যান্ত গর্বের সাথে বলতে পারি এরকম যদি প্রতিটি অঞ্চলে এক একজন বি.এস.সি স্যার দাড়িয়ে যান,তাহলে এলাকার আমূল পরিবর্তনের জন্য এবং বদদ্বীনি খতম করে দ্বীনি পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য তিনিই যতেষ্ট। আলহামদুলিল্লাহ, সালাহউদ্দীন আইয়ুবী(রঃ)এর উত্তরসূরির ভূমিকায় আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর নাম লিখে দিন। তিনি আর বলেন এই করোনা কালিন সময়ে দারিদ্র সীমার নিম্ন দেশে প্রায় ৫০ কেজি ওযনের নিত্য প্রয়োজনিয় জিনিস ২১৫ টি পরিবারকে প্রদান করা হবে। নিজের স্বার্থ ও প্রয়োজনকে বির্সজন দিয়ে এই এলাকার মানুষের জন্য যে সম্পদ ব্যয় করছেন। অত্র আয়াতে আল্লাহ তায়ালা তাদের প্রশংসা করে বলেন, এরা মানুষের খাদ্য জোগায় আল্লাহর মহব্বতে মিসকিনদের ও এতিমদের এবং বন্দিদের জন্য। তিনি আরও বলেন এতবড় প্যাকেজ যে একজন মহিলা বা ছাত্রী একা নিয়ে যেতে পারবে না অন্যের সাহায্য ছাড়া। এতবড় প্যাকেজ কোন অঞ্চলে দেওয়া হয় আমার জানা নেই। আল্লাহ তাঁদের আরো বিত্তবান করে দেন আমিন।
রমাদ্বান ফ্যামেলি ফুড প্যাকে যা প্রদান করা হয়।