ঢাকা ০২:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ মে ২০২৪, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কমলা হত্যাকান্ডে মামলা নেয়ার নির্দেশ দিলেন

খোর্শেদ আলম হবিগঞ্জঃ  হবিগঞ্জের বানিয়াচং সদরে আনসার ও ভিডিপি ইউনিয়ন দলনেতার মা বৃদ্ধা কমলা বিবি হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশ মামলা না নেয়ায় এলাকাবাসীর মিছিল ও স্বারকলিপির পর তদন্তে নেমেছেন খোদ হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যাহ।
রবিবার ২ জুুলাই দুপুর ১২টায় দেশমুখ্য পাড়ার নিহত কমলা বিবির বাড়ির সামনে এলাকার শত শত মানুষের উপস্থিতে তদন্তের পর ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় বানিয়াচং থানার ওসিকে মামলা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এসপি।
তদন্তকালে পাড়াগাও মহল্লার মুরুব্বী আরাফাত উল্লা পুলিশ সুপারকে জানান ঘটনার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি দেখেছেন কমলা বিবিকে চুলের মুঠি ধরে রাস্তায় ফেলে উজ্জল গংরা বেধরক পিটুনি দেয়ার পর তিনি বেহুশ হয়ে পড়েন।
অপরদিকে হামলাকারী লকুর বোন জামাই তাহের মিয়া পুলিশ সুপারের নিকট নালিশ করেন যে হামলাকারীরা অত্যন্ত উশৃঙ্খল। এসময় তাহের মিয়া ঘটনার বর্ননা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
তদন্তকালে এলাকাবাসী একবাক্যে অভিযোগ করেন যে হামলাকারীরা নানা অপকর্মের সাথে জড়িত। মাদক, জুয়াসহ বিভিন্ন অসামাজিক কাজে লুকু উজ্জলও কদ্দুছরা জড়িত। ঘটনার দিন কমলা বিবিকে হামলা করেই হত্যা করেছে মর্মে পুলিশ সুপারকে জানান এলাকার মুরুব্বীরা।
এছাড়া নিহতের পুত্র এনায়েত হোসেন বানিয়াচং থানার উপ পরিদর্শক আব্দুছ ছাত্তারকে মামলার আইও নিয়োগ না করতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্লাহর নিকট দাবী জানালে এসপি তা বিবেচনার আশ্বস্ত দেন।
জানা যায়, গত ২২ জুলাই ২০২০ সকাল ১১ টায় নিহত কমলা বিবির পুত্রবধুর সাথে ঘাটে নৌকা বাধাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী লুুকুর সাথে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে লুকু, আব্দুল কদ্দুস, উজ্জল ও আব্দুর রহিমসহ ১০ থেকে ১২ জন লোক পুত্রবধু জমিলা খাতুনকে বেধরক পিটুনি শুরু করে।
পুত্রবধুকে বাঁচাতে কমলা বিবি এগিয়ে আসলে তাকে কিল-ঘুষি মারতে থাকে হামলাকারীরা। একপর্যায়ে কমলা বিবি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে এলাকাবাসী উদ্ধার করে বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে বানিয়াচং থানার ওসি মোহাম্মদ এমরান হোসেন, ওসি তদন্ত প্রজীত কুমার দাস, এস আই আব্দুছ ছাত্তার হাসপাতালে গিয়ে মহিলা পুলিশের সহায়তায় নিহতের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করার পর ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করেন।
কমলা বিবি হত্যাকান্ড নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ফলাও করে খবর প্রকাশিত হয়। এরপর পুরো জেলাজুড়ে হত্যাকান্ডের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
এদিকে ২৪ জুলাই নিহতের পুত্র এনায়েত হোসেন বাদী হয়ে ১৪ জন ও অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জনের বিরুদ্ধে বানিয়াচং থানায় একটি লিখিত এাজাহার দাখিল করেন।
কিন্তু লাশের ময়না তদন্তের পূর্বে ওই ঘটনায় মামলা রেকর্ড করতে পুলিশ রাজী না হলে ২৬ জুুলাই এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে মিছিল সহকারে উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ রানা বরাবরে স্বারকলিপি দাখিল করেন।

ট্যাগস

কমলা হত্যাকান্ডে মামলা নেয়ার নির্দেশ দিলেন

আপডেট সময় ০৩:২৮:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২০

খোর্শেদ আলম হবিগঞ্জঃ  হবিগঞ্জের বানিয়াচং সদরে আনসার ও ভিডিপি ইউনিয়ন দলনেতার মা বৃদ্ধা কমলা বিবি হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশ মামলা না নেয়ায় এলাকাবাসীর মিছিল ও স্বারকলিপির পর তদন্তে নেমেছেন খোদ হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যাহ।
রবিবার ২ জুুলাই দুপুর ১২টায় দেশমুখ্য পাড়ার নিহত কমলা বিবির বাড়ির সামনে এলাকার শত শত মানুষের উপস্থিতে তদন্তের পর ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় বানিয়াচং থানার ওসিকে মামলা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এসপি।
তদন্তকালে পাড়াগাও মহল্লার মুরুব্বী আরাফাত উল্লা পুলিশ সুপারকে জানান ঘটনার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি দেখেছেন কমলা বিবিকে চুলের মুঠি ধরে রাস্তায় ফেলে উজ্জল গংরা বেধরক পিটুনি দেয়ার পর তিনি বেহুশ হয়ে পড়েন।
অপরদিকে হামলাকারী লকুর বোন জামাই তাহের মিয়া পুলিশ সুপারের নিকট নালিশ করেন যে হামলাকারীরা অত্যন্ত উশৃঙ্খল। এসময় তাহের মিয়া ঘটনার বর্ননা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
তদন্তকালে এলাকাবাসী একবাক্যে অভিযোগ করেন যে হামলাকারীরা নানা অপকর্মের সাথে জড়িত। মাদক, জুয়াসহ বিভিন্ন অসামাজিক কাজে লুকু উজ্জলও কদ্দুছরা জড়িত। ঘটনার দিন কমলা বিবিকে হামলা করেই হত্যা করেছে মর্মে পুলিশ সুপারকে জানান এলাকার মুরুব্বীরা।
এছাড়া নিহতের পুত্র এনায়েত হোসেন বানিয়াচং থানার উপ পরিদর্শক আব্দুছ ছাত্তারকে মামলার আইও নিয়োগ না করতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্লাহর নিকট দাবী জানালে এসপি তা বিবেচনার আশ্বস্ত দেন।
জানা যায়, গত ২২ জুলাই ২০২০ সকাল ১১ টায় নিহত কমলা বিবির পুত্রবধুর সাথে ঘাটে নৌকা বাধাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী লুুকুর সাথে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে লুকু, আব্দুল কদ্দুস, উজ্জল ও আব্দুর রহিমসহ ১০ থেকে ১২ জন লোক পুত্রবধু জমিলা খাতুনকে বেধরক পিটুনি শুরু করে।
পুত্রবধুকে বাঁচাতে কমলা বিবি এগিয়ে আসলে তাকে কিল-ঘুষি মারতে থাকে হামলাকারীরা। একপর্যায়ে কমলা বিবি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে এলাকাবাসী উদ্ধার করে বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে বানিয়াচং থানার ওসি মোহাম্মদ এমরান হোসেন, ওসি তদন্ত প্রজীত কুমার দাস, এস আই আব্দুছ ছাত্তার হাসপাতালে গিয়ে মহিলা পুলিশের সহায়তায় নিহতের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করার পর ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করেন।
কমলা বিবি হত্যাকান্ড নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ফলাও করে খবর প্রকাশিত হয়। এরপর পুরো জেলাজুড়ে হত্যাকান্ডের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
এদিকে ২৪ জুলাই নিহতের পুত্র এনায়েত হোসেন বাদী হয়ে ১৪ জন ও অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জনের বিরুদ্ধে বানিয়াচং থানায় একটি লিখিত এাজাহার দাখিল করেন।
কিন্তু লাশের ময়না তদন্তের পূর্বে ওই ঘটনায় মামলা রেকর্ড করতে পুলিশ রাজী না হলে ২৬ জুুলাই এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে মিছিল সহকারে উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ রানা বরাবরে স্বারকলিপি দাখিল করেন।