ঢাকা ১১:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অবিলম্বে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া এখন সময়ের দাবী।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অশেষ মেহেরবাণী এই যে, বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারীর এই সময়ে বাংলাদেশ এখনো ভাল অবস্থানে আছে । ধীরে ধীরে লকডাউন কাটিয়ে এখন সচল হয়েছে অর্থনীতির চাকা । বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশে মৃত্যুর হার অনেক কম । যদিও মৃত্যুর মিছিল এখনো চলমান আছে । তা সত্ত্বেও মানুষ চালিয়ে যাচ্ছে তার জীবন যুদ্ধ ।​ একে একে চালু হয়েছে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান , অফিস , গার্মেন্টস ও বৈদেশিক যোগাযোগ । কিন্তু এখনো খুলে দেয়া হয়নি বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো । দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নেমে এসেছে ভয়াবহ এক স্থবিরতা ।​
গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের ওহান শহরে শুরু হয় করোনা মহামারী । তারপর থেকেই থমথমে গোটা বিশ্ব । দেশে দেশে লকডাউন কাটিয়ে সবাই ফিরে যেতে শুরু করেছে এখন স্বাভাবিক জীবনে । ভ্যাকসিনের জন্য মানুষ এখন আর বসে নেই । কবে ভ্যাকসিন আসবে আর কবে মানুষ ফিরে যাবে আবার স্বাভাবিক জীবনে ? এটি অবশ্যই ভাবার বিষয় । মহামারির একমাত্র সমাধান কি ভ্যাকসিন ? অবশ্যই নয় । এমনটা ভাবলে তা অবশ্যই ভূল হবে । এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাস যতবার জেনম বৈশিষ্টের পরিবর্তন ঘটিয়েছে । তাতে এটাই প্রমানিত হয় যে, শুধুমাত্র একটি অথবা কয়েকটি ভ্যাকসিন যথেষ্ঠ নয় । প্রতিটি জেনম সিক্যুয়েন্সের জন্য প্রয়োজন আলাদা আলাদা ভ্যাকসিন । আচ্ছা, একবার ভাবুন তো, যেখানে একটি ভ্যাকসিনই এখন পর্যন্ত চুড়ান্তভাবে প্রস্তুত হয়নি , সেখানে এতগুলো ভ্যাকসিন কতটুকু সময় সাপেক্ষ ? তাই ভ্যাকসিনের জন্য বসে না থেকে , আমাদের হাতে এই পর্যন্ত যতটুকু মেডিকেল প্রযুক্তি আছে তা দিয়েই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে । তাছাড়া আমার ব্যক্তিগত দৃষ্টিতে করোনা কোন শক্তিশালী অথবা ভয়াবহ মহামারী নয় । প্রতিদিন বাংলাদেশে কতজন মারা যায় আর কতজন আরোগ্য লাভ করে তার একটা হিসেব কষে নিলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে ।
এবার আসি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথায় । খুলে দেয়া হলো হাঁট বাজার, বন্দর , গার্মেন্টস ও গণপরিবহন । তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে সমস্যা আসলে কোথায় ? নাকি জনসমাগম শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই হয় , তাছাড়া অন্য কোথাও হয় না ।?​ ঠুনকো অজুহাতে​ দিনের পর দিন বন্ধ করে রাখা হয়েছে শিক্ষা গুলো । এমন কর্মকান্ড শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আমাদের ব্যাপক অবহেলার বহি: প্রকাশ ঘটাচ্ছে ।​
আমাদের দেশের নেতা নেত্রী থেকে শুরু করে বিশিষ্ট ও শিক্ষিত ব্যক্তিদের মুখেও অনলাইন ক্লাসের ব্যপক গুণগান শোনা যায় । বলি , অনলাইন ক্লাস কি আপনাদের হাতে মুয়া ? যে দেশে অনলাইন ক্লাস ইতিপূর্বে কোনদিন ভূলেও হয়নি , সে দেশে রাতারাতি এটা কি করে সম্ভব ? বাংলাদেশের বড় ও পুরানো বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতেও তো ইতিপূর্বে অনলাইন ক্লাস চালু হয়নি । তাছাড়া এ জন্য প্রয়োজন পূর্ব অভিজ্ঞতা ও সুষ্ঠু নীতিমালা । এসব কিছু ছাড়াই হঠাৎ করে বাধ্যতামূলক ভাবে অনলাইন ক্লাস চাপিয়ে দেয়া সত্যিই অবিবেচনা প্রসূত ।​ এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সুবিধা​
-অসুবিধার বিষয়টি প্রাধান্য দেয়া উচিত ছিল । সাম্যভিত্তিক একটি সমাজ চিন্তার অংশ হিসেবে এটি অত্যন্ত গুরুত্তপূর্ণ ।
এখন পর্যন্ত এ বৎসরের এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি । এটি নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে তেমন কোন আলোচনা হচ্ছে না । মিডিয়াও এই বিষয়ে কোন সংবাদ অথবা টকশো প্রচার করে না । বিষয়টা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে , এতগুলো এইচএসসি পরীক্ষার্থীর জীবনের কোন মূল্যই নেই সরকারের কাছে ।​
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়ছে সেশনজট । শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা ও উৎকন্ঠা । সরকার কেবল অনলাইন ক্লাস বাধ্যতামূলক করেই ক্ষান্ত । কতোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস শুরু হয়েছে আর কোথায় শুরুই হয়নি তার কোন খবর শিক্ষা মন্ত্রনালয় রাখে না । অথচ জাতির এ মহা দুর্যোগে একটি বাস্তব ভিত্তিক ও সুষ্ঠু পরিকল্পনা একান্তভাবেই কাম্য ছিল । কেবল সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের ঠুনকো অযুহাতেই বন্ধ করে রাখা হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো । সামাজিক দূরত্ব মেনে যদি গণপরিবহন ও গার্মেন্টস চালু হতে পারে , তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেন খুলে দেয়া যাবে না ?
সবচাইতে বড় আশ্চর্য লাগে এই বিষয়টি যে , এখন পর্যন্ত কোন শিক্ষার্থীর মুখেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবী উঠেনি ! মিডিয়া ও বিশিষ্টজনদেরও এ বিষয় নিয়ে তেমন কোন গুরুতর পরিলক্ষিত হয় না ।​ প্রশ্ন হচ্ছে, অনির্দিষ্ট কালের জন্য এভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রাখার যৌক্তিকতা কোথায় ? একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এই বিষয়ে আমি হতাশ এবং আমার হতাশা সমাজের আরো হাজারো শিক্ষার্থীর হতাশার প্রতিচ্ছবি ।
মোঃ​ আরাফাত রহমান ।
মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ​
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়​ ।
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

অবিলম্বে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া এখন সময়ের দাবী।

আপডেট সময় ০৫:০৪:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২০
আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অশেষ মেহেরবাণী এই যে, বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারীর এই সময়ে বাংলাদেশ এখনো ভাল অবস্থানে আছে । ধীরে ধীরে লকডাউন কাটিয়ে এখন সচল হয়েছে অর্থনীতির চাকা । বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশে মৃত্যুর হার অনেক কম । যদিও মৃত্যুর মিছিল এখনো চলমান আছে । তা সত্ত্বেও মানুষ চালিয়ে যাচ্ছে তার জীবন যুদ্ধ ।​ একে একে চালু হয়েছে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান , অফিস , গার্মেন্টস ও বৈদেশিক যোগাযোগ । কিন্তু এখনো খুলে দেয়া হয়নি বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো । দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নেমে এসেছে ভয়াবহ এক স্থবিরতা ।​
গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের ওহান শহরে শুরু হয় করোনা মহামারী । তারপর থেকেই থমথমে গোটা বিশ্ব । দেশে দেশে লকডাউন কাটিয়ে সবাই ফিরে যেতে শুরু করেছে এখন স্বাভাবিক জীবনে । ভ্যাকসিনের জন্য মানুষ এখন আর বসে নেই । কবে ভ্যাকসিন আসবে আর কবে মানুষ ফিরে যাবে আবার স্বাভাবিক জীবনে ? এটি অবশ্যই ভাবার বিষয় । মহামারির একমাত্র সমাধান কি ভ্যাকসিন ? অবশ্যই নয় । এমনটা ভাবলে তা অবশ্যই ভূল হবে । এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাস যতবার জেনম বৈশিষ্টের পরিবর্তন ঘটিয়েছে । তাতে এটাই প্রমানিত হয় যে, শুধুমাত্র একটি অথবা কয়েকটি ভ্যাকসিন যথেষ্ঠ নয় । প্রতিটি জেনম সিক্যুয়েন্সের জন্য প্রয়োজন আলাদা আলাদা ভ্যাকসিন । আচ্ছা, একবার ভাবুন তো, যেখানে একটি ভ্যাকসিনই এখন পর্যন্ত চুড়ান্তভাবে প্রস্তুত হয়নি , সেখানে এতগুলো ভ্যাকসিন কতটুকু সময় সাপেক্ষ ? তাই ভ্যাকসিনের জন্য বসে না থেকে , আমাদের হাতে এই পর্যন্ত যতটুকু মেডিকেল প্রযুক্তি আছে তা দিয়েই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে । তাছাড়া আমার ব্যক্তিগত দৃষ্টিতে করোনা কোন শক্তিশালী অথবা ভয়াবহ মহামারী নয় । প্রতিদিন বাংলাদেশে কতজন মারা যায় আর কতজন আরোগ্য লাভ করে তার একটা হিসেব কষে নিলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে ।
এবার আসি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথায় । খুলে দেয়া হলো হাঁট বাজার, বন্দর , গার্মেন্টস ও গণপরিবহন । তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে সমস্যা আসলে কোথায় ? নাকি জনসমাগম শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই হয় , তাছাড়া অন্য কোথাও হয় না ।?​ ঠুনকো অজুহাতে​ দিনের পর দিন বন্ধ করে রাখা হয়েছে শিক্ষা গুলো । এমন কর্মকান্ড শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আমাদের ব্যাপক অবহেলার বহি: প্রকাশ ঘটাচ্ছে ।​
আমাদের দেশের নেতা নেত্রী থেকে শুরু করে বিশিষ্ট ও শিক্ষিত ব্যক্তিদের মুখেও অনলাইন ক্লাসের ব্যপক গুণগান শোনা যায় । বলি , অনলাইন ক্লাস কি আপনাদের হাতে মুয়া ? যে দেশে অনলাইন ক্লাস ইতিপূর্বে কোনদিন ভূলেও হয়নি , সে দেশে রাতারাতি এটা কি করে সম্ভব ? বাংলাদেশের বড় ও পুরানো বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতেও তো ইতিপূর্বে অনলাইন ক্লাস চালু হয়নি । তাছাড়া এ জন্য প্রয়োজন পূর্ব অভিজ্ঞতা ও সুষ্ঠু নীতিমালা । এসব কিছু ছাড়াই হঠাৎ করে বাধ্যতামূলক ভাবে অনলাইন ক্লাস চাপিয়ে দেয়া সত্যিই অবিবেচনা প্রসূত ।​ এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সুবিধা​
-অসুবিধার বিষয়টি প্রাধান্য দেয়া উচিত ছিল । সাম্যভিত্তিক একটি সমাজ চিন্তার অংশ হিসেবে এটি অত্যন্ত গুরুত্তপূর্ণ ।
এখন পর্যন্ত এ বৎসরের এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি । এটি নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে তেমন কোন আলোচনা হচ্ছে না । মিডিয়াও এই বিষয়ে কোন সংবাদ অথবা টকশো প্রচার করে না । বিষয়টা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে , এতগুলো এইচএসসি পরীক্ষার্থীর জীবনের কোন মূল্যই নেই সরকারের কাছে ।​
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়ছে সেশনজট । শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা ও উৎকন্ঠা । সরকার কেবল অনলাইন ক্লাস বাধ্যতামূলক করেই ক্ষান্ত । কতোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস শুরু হয়েছে আর কোথায় শুরুই হয়নি তার কোন খবর শিক্ষা মন্ত্রনালয় রাখে না । অথচ জাতির এ মহা দুর্যোগে একটি বাস্তব ভিত্তিক ও সুষ্ঠু পরিকল্পনা একান্তভাবেই কাম্য ছিল । কেবল সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের ঠুনকো অযুহাতেই বন্ধ করে রাখা হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো । সামাজিক দূরত্ব মেনে যদি গণপরিবহন ও গার্মেন্টস চালু হতে পারে , তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেন খুলে দেয়া যাবে না ?
সবচাইতে বড় আশ্চর্য লাগে এই বিষয়টি যে , এখন পর্যন্ত কোন শিক্ষার্থীর মুখেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবী উঠেনি ! মিডিয়া ও বিশিষ্টজনদেরও এ বিষয় নিয়ে তেমন কোন গুরুতর পরিলক্ষিত হয় না ।​ প্রশ্ন হচ্ছে, অনির্দিষ্ট কালের জন্য এভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রাখার যৌক্তিকতা কোথায় ? একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এই বিষয়ে আমি হতাশ এবং আমার হতাশা সমাজের আরো হাজারো শিক্ষার্থীর হতাশার প্রতিচ্ছবি ।
মোঃ​ আরাফাত রহমান ।
মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ​
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়​ ।