ঢাকা ০২:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ মে ২০২৪, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আবারও করোনা’র অজুহাতে বন্ধ হচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত বিমানের সিলেট টু লন্ডনের সরাসরি ফ্লাইট।

ডেস্ক নিউজঃ আবারও বিমানের বিড়ম্বনায় পড়তে যাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা। বিশেষ করে বহুল প্রত্যাশিত সিলেট টু লন্ডন ফ্লাইট নিয়ে আবারও শুরু হয়েছে নতুন করে টালবাহানা। বাংলাদেশ বিমানের লন্ডন ফেরত যাত্রীদের যাদের সরাসরি গন্তব্য সিলেটে তাদেরকেও ঢাকা থেকেই লাগেজ সংগ্রহ করতে হবে।যাত্রীরা ঢাকায় ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার পর তাদেরকে ডমেস্টিক ফ্লাইটের মাধ্যমে সিলেটে পাঠানো হচ্ছে। এয়ারলাইন্সের এধরণের সিদ্ধান্তে বিড়ম্বনায় পড়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বৃটিশ নাগরিকরা। এর ফলে তাদেরকে লাগেজগুলো টেনে টেনে ডমেস্টিক টার্মিনালে নিয়ে যেতে হচ্ছে যা করোনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে মনে হচ্ছে কিন্তু এই সিদ্ধান্তের মূল কারনই হচ্ছে করোনা নিয়ন্ত্রণের জন্যই উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনায় বিমান এমন নির্দেশনা জারি করেছে বলে জানিয়েছেন বিমানের উপ-মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার। তিনি বলেন করোনা পজেটিভ বা উপসর্গ যাদের রয়েছে তাদের এমন যাত্রীদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন বা আইসোলেশনের জন্য পাঠাতে হয়। আর তাই এটা নিশ্চিত করতেই উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তেই যুক্তরাজ্যে ফেরতদেরকে সিলেট না পাঠিয়ে ঢাকায় ইমিগ্রেশন হচ্ছে। সঙ্গত কারণেই তাদের লাগেজগুলো ও সিলেটে যাচ্ছে না, এগুলো ঢাকা থেকেই কালেক্ট করতে হচ্ছে।

সমানভাবে দেশের আরেকটি আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট চট্টগ্রামেও মধ্যপ্রাচ্য বা অন্যান্য দেশ থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের কোনো ধরনের ফ্লাইট সেখানে যাচ্ছে না। চট্টগ্রামমুখী সকল বিমানের যাত্রীদেরও ঢাকায় ইমিগ্রেশন করতে হবে, লাগেজ গুলো নিয়েই তাদেরকে ডমেস্টিক ফ্লাইটেই যেতে হবে। বিমানের এই কর্মকর্তা আরো বলেন এটা বিমানের সিদ্ধান্ত নয়, তারা উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তকেই বাস্তবায়ন করছে অপরদিকে ঢাকায় ইমিগ্রেশন এবং ঢাকা থেকেই লাগেজ সংগ্রহের এই সিদ্ধান্তে খুবই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া হয়েছে যুক্তরাজ্যে তারা সেখানে বাংলাদেশ হাইকমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন বৃটিশ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতরা। তারা এ সিদ্ধান্তের পরিবর্তন চেয়েছেন। দাবি জানিয়েছেন প্রয়োজনে সিলেটে আইসোলেশন সেন্টার করার জন্য তবুও তাদের ইমিগ্রেশন যেন সিলেটেই হয় এবং লাগেজ যেন তারা সিলেট থেকেই সংগ্রহ করতে পারেন। করোনা ঠেকাতে ঢাকার নেয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বৃটিশ নাগরিকদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া বিষয়টি স্বীকার করে বাংলাদেশ হাইকমিশনের তরফ থেকে জানানো হয় তারা এ বিষয়টির খোঁজখবর নিচ্ছেন। এবং সেখানকার বাংলাদেশী কমিউনিটিকে তারা একই সঙ্গে বিষয়টি ও অনুধাবনের অনুরোধ করা হচ্ছে। অন্যদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, করোনা বিষয়ক সরকারি বেশ কিছু সিদ্ধান্তের জন্য যুক্তরাজ্যের বৃটিশ বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে তারা অবহিত রয়েছেন এবং বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন যতটা সম্ভব তা শিথিল করার জন্য তারা চেষ্টা করবেন। বৃটিশ বাংলাদেশিদের দীর্ঘ দিনের আন্দোলনে অনেক দিন বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হয়েছিলো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সরাসরি ফ্লাইট সিলেট টু লন্ডন। এখন করোনা’কে ইস্যু করে তা আবারও বন্ধ হয়ে গেল এ যেন বৃটিশ বাংলাদেশিদের জন্য অবহেলা অবিচার এবং অমানবিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন প্রবাসীরা।

ট্যাগস

আবারও করোনা’র অজুহাতে বন্ধ হচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত বিমানের সিলেট টু লন্ডনের সরাসরি ফ্লাইট।

আপডেট সময় ০২:৫০:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২০

ডেস্ক নিউজঃ আবারও বিমানের বিড়ম্বনায় পড়তে যাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা। বিশেষ করে বহুল প্রত্যাশিত সিলেট টু লন্ডন ফ্লাইট নিয়ে আবারও শুরু হয়েছে নতুন করে টালবাহানা। বাংলাদেশ বিমানের লন্ডন ফেরত যাত্রীদের যাদের সরাসরি গন্তব্য সিলেটে তাদেরকেও ঢাকা থেকেই লাগেজ সংগ্রহ করতে হবে।যাত্রীরা ঢাকায় ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার পর তাদেরকে ডমেস্টিক ফ্লাইটের মাধ্যমে সিলেটে পাঠানো হচ্ছে। এয়ারলাইন্সের এধরণের সিদ্ধান্তে বিড়ম্বনায় পড়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বৃটিশ নাগরিকরা। এর ফলে তাদেরকে লাগেজগুলো টেনে টেনে ডমেস্টিক টার্মিনালে নিয়ে যেতে হচ্ছে যা করোনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে মনে হচ্ছে কিন্তু এই সিদ্ধান্তের মূল কারনই হচ্ছে করোনা নিয়ন্ত্রণের জন্যই উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনায় বিমান এমন নির্দেশনা জারি করেছে বলে জানিয়েছেন বিমানের উপ-মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার। তিনি বলেন করোনা পজেটিভ বা উপসর্গ যাদের রয়েছে তাদের এমন যাত্রীদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন বা আইসোলেশনের জন্য পাঠাতে হয়। আর তাই এটা নিশ্চিত করতেই উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তেই যুক্তরাজ্যে ফেরতদেরকে সিলেট না পাঠিয়ে ঢাকায় ইমিগ্রেশন হচ্ছে। সঙ্গত কারণেই তাদের লাগেজগুলো ও সিলেটে যাচ্ছে না, এগুলো ঢাকা থেকেই কালেক্ট করতে হচ্ছে।

সমানভাবে দেশের আরেকটি আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট চট্টগ্রামেও মধ্যপ্রাচ্য বা অন্যান্য দেশ থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের কোনো ধরনের ফ্লাইট সেখানে যাচ্ছে না। চট্টগ্রামমুখী সকল বিমানের যাত্রীদেরও ঢাকায় ইমিগ্রেশন করতে হবে, লাগেজ গুলো নিয়েই তাদেরকে ডমেস্টিক ফ্লাইটেই যেতে হবে। বিমানের এই কর্মকর্তা আরো বলেন এটা বিমানের সিদ্ধান্ত নয়, তারা উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তকেই বাস্তবায়ন করছে অপরদিকে ঢাকায় ইমিগ্রেশন এবং ঢাকা থেকেই লাগেজ সংগ্রহের এই সিদ্ধান্তে খুবই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া হয়েছে যুক্তরাজ্যে তারা সেখানে বাংলাদেশ হাইকমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন বৃটিশ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতরা। তারা এ সিদ্ধান্তের পরিবর্তন চেয়েছেন। দাবি জানিয়েছেন প্রয়োজনে সিলেটে আইসোলেশন সেন্টার করার জন্য তবুও তাদের ইমিগ্রেশন যেন সিলেটেই হয় এবং লাগেজ যেন তারা সিলেট থেকেই সংগ্রহ করতে পারেন। করোনা ঠেকাতে ঢাকার নেয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বৃটিশ নাগরিকদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া বিষয়টি স্বীকার করে বাংলাদেশ হাইকমিশনের তরফ থেকে জানানো হয় তারা এ বিষয়টির খোঁজখবর নিচ্ছেন। এবং সেখানকার বাংলাদেশী কমিউনিটিকে তারা একই সঙ্গে বিষয়টি ও অনুধাবনের অনুরোধ করা হচ্ছে। অন্যদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, করোনা বিষয়ক সরকারি বেশ কিছু সিদ্ধান্তের জন্য যুক্তরাজ্যের বৃটিশ বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে তারা অবহিত রয়েছেন এবং বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন যতটা সম্ভব তা শিথিল করার জন্য তারা চেষ্টা করবেন। বৃটিশ বাংলাদেশিদের দীর্ঘ দিনের আন্দোলনে অনেক দিন বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হয়েছিলো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সরাসরি ফ্লাইট সিলেট টু লন্ডন। এখন করোনা’কে ইস্যু করে তা আবারও বন্ধ হয়ে গেল এ যেন বৃটিশ বাংলাদেশিদের জন্য অবহেলা অবিচার এবং অমানবিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন প্রবাসীরা।