ঢাকা ০৩:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ মে ২০২৪, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সিলেটে অনুমোদন ছাড়াই চলছে আরোগ্য পলি ক্লিনিক

মাসুদ আহমদ রনি : নিজের আরোগ্যই নিশ্চিত করতে পারেনি অনুমোদনহীন আরোগ্য পলি ক্লিনিক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিবন্ধন ছাড়াই স্বাস্থসেবা চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। নেই অতি আবশ্যক পরিবেশ ছাড়পত্র, অগ্নি নির্বাপণ লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। ১৫ শয্যার ক্লিনিকের নামে ট্রেড লাইসেন্স নেয়া হলেও সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে ৩৫ শয্যার পুর্নাঙ্গ হাসপাতাল।সিলেট নগরীর কেন্দ্রস্থল মধুশহীদ এলাকায় অনুমোদনহীন এ হাসপাতাল চলছে বিনা বাঁধায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে সিলেট বিভাগীয় সদরে বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত যে ৭০ টি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের তালিকা দেয়া আছে তাতে নাম নেই আরোগ্য পলি ক্লিনিকের। এ সূত্র ধরে অনুসন্ধানে নামে টাইমনিউজ ইউকেবিডি।
এই হাসপাতালে গিয়ে তাদের লাইসেন্স নবায়ন আছে কিনা জানতে চাইলে হাসপাতালের সহকারী ম্যানেজার পরিচয়দানকারি শামসুল আলম উল্টো এ প্রতিবেদককে বেশ দাম্ভোক্তির সুরেই বলেন, এসব দেখার আপনি কে ? এগুলো প্রশাসন দেখবে। প্রশাসন যেখানে দেখছে না, সেখানে আপনি এসব বিষয়ে নাক না গলালেই ভালো।

মুঠোফোনে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের ম্যানেজার বিজন কুমার বলেন, লাইসেন্স নবায়নের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র জমা দিতে হয়। সেটি না থাকায় লাইসেন্সটি নবায়ন করা যাচ্ছে না। কাগজপত্র ছাড়া কিভাবে হাসপাতাল পরিচালনা করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এতোকিছু আমি বলতে পারবো না। আপনি আমাদের হাসপাতালের ডাক্তার সব্যসাচী স্যার কে ফোন দেন। উনার মোবাইল নাম্বার চাইলে এসএমএস এর মাধ্যমে দিচ্ছেন বলে ফোনের সংযোগ কেটে দেন। কিছুক্ষন পরে ফোন দিয়ে জানান ‘আমরা ফোনে কোন তথ্য দিতে পারবো না’।

এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, অনুর্ধ্ব ১৫ শয্যার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে ক্লিনিকের নিবন্ধন দেয়া হয়। কিন্তু ১৫ এর বেশি শয্যাবিশিষ্ট প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে হলে হাসপাতালের নিবন্ধন নিতে হয়। আর, ক্লিনিকের বেলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক, বা উপ পরিচালক লাইসেন্স ইস্যু করতে পারেন। কিন্তু হাসপাতালের লাইসেন্স প্রদান করে ঢাকাস্থ মহাপরিচালক এর কার্যালয়। সেক্ষেত্রে, বেশকিছু পূর্বশর্ত পূরণসহ একটা লম্বা পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। আর এ নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অনিয়ম ও দূর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে আরোগ্য পলি ক্লিনিক।

১৫ শয্যার ক্লিনিক খোলার জন্য ট্রেড লাইসেন্স ও নিবন্ধন নিয়ে সেখানে ৩৫ শয্যার হাসপাতাল চালাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। লাইসেন্স এর শর্ত অনুযায়ী ক্লিনিকের জন্য যে পরিমান যন্ত্রপাতি ও সুরক্ষা সামগ্রী থাকতে হয়, তার দ্বিগুণ থাকা আবশ্যক হাসপাতালে। এছাড়া, হাসপাতালের লাইসেন্স ফি ক্লিনিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। সেক্ষেত্রে ক্লিনিকের অনুমোদন নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল পরিচালনা করে সরকারকে বিপুল পরিমান রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। গত কয়েক বছর ধরে লাইসেন্স এর মেয়াদ শেষ হলেও তা নবায়ন না করেই স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে যাচ্ছে আরোগ্য পলি ক্লিনিক।

লাইসেন্সবিহীন এ হাসপাতালের ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডাক্তার সুলতানা রাজিয়ার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি টাইমনিউজ ইউকেবিডিকে জানান, অবৈধভাবে পরিচালিত কোন হাসপাতাল সিলেটে চলতে পারবে না। আমরা বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো।

ট্যাগস

সিলেটে অনুমোদন ছাড়াই চলছে আরোগ্য পলি ক্লিনিক

আপডেট সময় ১২:২৭:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২০

মাসুদ আহমদ রনি : নিজের আরোগ্যই নিশ্চিত করতে পারেনি অনুমোদনহীন আরোগ্য পলি ক্লিনিক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিবন্ধন ছাড়াই স্বাস্থসেবা চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। নেই অতি আবশ্যক পরিবেশ ছাড়পত্র, অগ্নি নির্বাপণ লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। ১৫ শয্যার ক্লিনিকের নামে ট্রেড লাইসেন্স নেয়া হলেও সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে ৩৫ শয্যার পুর্নাঙ্গ হাসপাতাল।সিলেট নগরীর কেন্দ্রস্থল মধুশহীদ এলাকায় অনুমোদনহীন এ হাসপাতাল চলছে বিনা বাঁধায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে সিলেট বিভাগীয় সদরে বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত যে ৭০ টি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের তালিকা দেয়া আছে তাতে নাম নেই আরোগ্য পলি ক্লিনিকের। এ সূত্র ধরে অনুসন্ধানে নামে টাইমনিউজ ইউকেবিডি।
এই হাসপাতালে গিয়ে তাদের লাইসেন্স নবায়ন আছে কিনা জানতে চাইলে হাসপাতালের সহকারী ম্যানেজার পরিচয়দানকারি শামসুল আলম উল্টো এ প্রতিবেদককে বেশ দাম্ভোক্তির সুরেই বলেন, এসব দেখার আপনি কে ? এগুলো প্রশাসন দেখবে। প্রশাসন যেখানে দেখছে না, সেখানে আপনি এসব বিষয়ে নাক না গলালেই ভালো।

মুঠোফোনে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের ম্যানেজার বিজন কুমার বলেন, লাইসেন্স নবায়নের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র জমা দিতে হয়। সেটি না থাকায় লাইসেন্সটি নবায়ন করা যাচ্ছে না। কাগজপত্র ছাড়া কিভাবে হাসপাতাল পরিচালনা করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এতোকিছু আমি বলতে পারবো না। আপনি আমাদের হাসপাতালের ডাক্তার সব্যসাচী স্যার কে ফোন দেন। উনার মোবাইল নাম্বার চাইলে এসএমএস এর মাধ্যমে দিচ্ছেন বলে ফোনের সংযোগ কেটে দেন। কিছুক্ষন পরে ফোন দিয়ে জানান ‘আমরা ফোনে কোন তথ্য দিতে পারবো না’।

এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, অনুর্ধ্ব ১৫ শয্যার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে ক্লিনিকের নিবন্ধন দেয়া হয়। কিন্তু ১৫ এর বেশি শয্যাবিশিষ্ট প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে হলে হাসপাতালের নিবন্ধন নিতে হয়। আর, ক্লিনিকের বেলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক, বা উপ পরিচালক লাইসেন্স ইস্যু করতে পারেন। কিন্তু হাসপাতালের লাইসেন্স প্রদান করে ঢাকাস্থ মহাপরিচালক এর কার্যালয়। সেক্ষেত্রে, বেশকিছু পূর্বশর্ত পূরণসহ একটা লম্বা পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। আর এ নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অনিয়ম ও দূর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে আরোগ্য পলি ক্লিনিক।

১৫ শয্যার ক্লিনিক খোলার জন্য ট্রেড লাইসেন্স ও নিবন্ধন নিয়ে সেখানে ৩৫ শয্যার হাসপাতাল চালাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। লাইসেন্স এর শর্ত অনুযায়ী ক্লিনিকের জন্য যে পরিমান যন্ত্রপাতি ও সুরক্ষা সামগ্রী থাকতে হয়, তার দ্বিগুণ থাকা আবশ্যক হাসপাতালে। এছাড়া, হাসপাতালের লাইসেন্স ফি ক্লিনিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। সেক্ষেত্রে ক্লিনিকের অনুমোদন নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল পরিচালনা করে সরকারকে বিপুল পরিমান রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। গত কয়েক বছর ধরে লাইসেন্স এর মেয়াদ শেষ হলেও তা নবায়ন না করেই স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে যাচ্ছে আরোগ্য পলি ক্লিনিক।

লাইসেন্সবিহীন এ হাসপাতালের ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডাক্তার সুলতানা রাজিয়ার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি টাইমনিউজ ইউকেবিডিকে জানান, অবৈধভাবে পরিচালিত কোন হাসপাতাল সিলেটে চলতে পারবে না। আমরা বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো।