ঢাকা ০৬:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বেতনের টাকা নিতে এসে শিক্ষক আহত

টাইমনিউজ ডেস্ক:: মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্পের আওতায় বয়স্কদের নিয়ে পরিচালিত গণশিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষকরা বেতন নিতে এসে মার খেলেন তিন শিক্ষক। আহতাবস্থায় তাদেরকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) বিকেলে উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা-ব্যুরো অফিসে টাকা কম দেওয়ার প্রতিবাদ করায় তাদের উপর সন্ত্রাসী দিয়ে হামলা চালান প্রকল্পের উপজেলা প্রোগ্রাম অফিসার পরাগ আচার্য্য।
এঘটনায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন প্রকল্পের শিক্ষক ও উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের ধলিপাড়া গ্রামের মৃত হাজী নজির উদ্দিনের ছেলে সামসুদ্দিন, একই গ্রামের আকবর আলীর ছেলে রাসেল আহমদ, রহমান নগর গ্রামের মৃত মানিক উদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান টিটু।
এদিকে হামলার এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থল থেকে প্রোগ্রাম অফিসার পরাগ আচার্য্য ও তার তিন সহযোগীকে (প্রকল্পের সুপারভাইজার) আটক করেছে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ। আটক অপর তিন সুপারভাইজার হলেন দশঘর ইউনিয়ন’র সুমন মিয়া (২৬), খাজাঞ্চি ইউনিয়ন’র আজিজুর রহমান (৩০) ও লামাকাজি ইউনিয়ন’র ফারুক মিয়া (৩২)।
উপস্থিত শিক্ষকরা জানান, বিশ্বনাথে মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্পের আওতায় বয়স্কদের নিয়ে পরিচালিত গণশিক্ষার কার্যক্রমে নিয়োগ পেয়ে মাসিক ২হাজার ৪শ’টাকা বেতনে উপজেলায় প্রায় ৪শতাধিক শিক্ষকরা বয়স্কদের শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন। রোববার একসঙ্গে তিন মাসের বেতন ৭হাজার ২০০টাকা নিতে উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা-ব্যুরো অফিসে জড়ো হন রামপাশা ইউনিয়নের ৫২জন শিক্ষক। বেতন সীটে স্বাক্ষর নিয়ে ৭হাজার ২০০টাকার পরিবর্তে পুরুষ শিক্ষকদের ৫হাজার আর নারী শিক্ষকদের ৪হাজার টাকা করে দেন উপজেলা প্রোগ্রাম অফিসার পরাগ আচার্য্য। বেতনের টাকা কম পেয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা তাৎক্ষনিক প্রতিবাদ করেন। আর প্রতিবাদ করায় অফিসার পরাগ আচার্য্যরে নির্দেশে ইউনিয়ন সুপারভাইজার দবির মিয়া, খলিলুর রহমান, সাইদুর রহমান, জাহানুর রহমান, সুমন মিয়া, জাহাঙ্গীর আলম, আজিজুর রহমান, ফারুক মিয়া আরও বহিরাগত ক্যাডারদের ডেকে এনে শিক্ষকদের উপর হামলা করান। এসময় উপজেলা চেয়ারম্যান এস.এম নুনু মিয়ার হস্তক্ষেপে পরিবেশ শান্ত হয়। পরে তিনি পুলিশে খবর দিলে উপজেলা প্রোগ্রাম অফিসারসহ চারজনকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছে বলে শিক্ষকরা জানিয়েছেন।
বিশ^নাথ থানার ওসি শামীম মুসা বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান সাহেবের কথায় তাৎক্ষনিকভাবে চারজনকে পুলিশ হেফাজতে আনা হয়। এরপর প্রোগ্রাম অফিসার, সুপারভাইজার ও শিক্ষকদের উপস্থিতিতে বিষয়টি থানাতেই নিস্পত্তি করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. কামরুজ্জামান বলেন, কোন শিক্ষককে এক টাকাও কম দেওয়ার সুযোগ নেই। শিক্ষকদের প্রাপ্য টাকা তাদেরকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। হামলার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে তিনি থানার অফিসার ইনচার্র্জকে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম নুনু মিয়া শুভপ্রতিদিনকে বলেন, টাকা আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ^নাথে কোন দূর্নীতিবাজের স্থান নেই।

ট্যাগস

বেতনের টাকা নিতে এসে শিক্ষক আহত

আপডেট সময় ০১:১৮:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২০

টাইমনিউজ ডেস্ক:: মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্পের আওতায় বয়স্কদের নিয়ে পরিচালিত গণশিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষকরা বেতন নিতে এসে মার খেলেন তিন শিক্ষক। আহতাবস্থায় তাদেরকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) বিকেলে উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা-ব্যুরো অফিসে টাকা কম দেওয়ার প্রতিবাদ করায় তাদের উপর সন্ত্রাসী দিয়ে হামলা চালান প্রকল্পের উপজেলা প্রোগ্রাম অফিসার পরাগ আচার্য্য।
এঘটনায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন প্রকল্পের শিক্ষক ও উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের ধলিপাড়া গ্রামের মৃত হাজী নজির উদ্দিনের ছেলে সামসুদ্দিন, একই গ্রামের আকবর আলীর ছেলে রাসেল আহমদ, রহমান নগর গ্রামের মৃত মানিক উদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান টিটু।
এদিকে হামলার এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থল থেকে প্রোগ্রাম অফিসার পরাগ আচার্য্য ও তার তিন সহযোগীকে (প্রকল্পের সুপারভাইজার) আটক করেছে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ। আটক অপর তিন সুপারভাইজার হলেন দশঘর ইউনিয়ন’র সুমন মিয়া (২৬), খাজাঞ্চি ইউনিয়ন’র আজিজুর রহমান (৩০) ও লামাকাজি ইউনিয়ন’র ফারুক মিয়া (৩২)।
উপস্থিত শিক্ষকরা জানান, বিশ্বনাথে মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্পের আওতায় বয়স্কদের নিয়ে পরিচালিত গণশিক্ষার কার্যক্রমে নিয়োগ পেয়ে মাসিক ২হাজার ৪শ’টাকা বেতনে উপজেলায় প্রায় ৪শতাধিক শিক্ষকরা বয়স্কদের শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন। রোববার একসঙ্গে তিন মাসের বেতন ৭হাজার ২০০টাকা নিতে উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা-ব্যুরো অফিসে জড়ো হন রামপাশা ইউনিয়নের ৫২জন শিক্ষক। বেতন সীটে স্বাক্ষর নিয়ে ৭হাজার ২০০টাকার পরিবর্তে পুরুষ শিক্ষকদের ৫হাজার আর নারী শিক্ষকদের ৪হাজার টাকা করে দেন উপজেলা প্রোগ্রাম অফিসার পরাগ আচার্য্য। বেতনের টাকা কম পেয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা তাৎক্ষনিক প্রতিবাদ করেন। আর প্রতিবাদ করায় অফিসার পরাগ আচার্য্যরে নির্দেশে ইউনিয়ন সুপারভাইজার দবির মিয়া, খলিলুর রহমান, সাইদুর রহমান, জাহানুর রহমান, সুমন মিয়া, জাহাঙ্গীর আলম, আজিজুর রহমান, ফারুক মিয়া আরও বহিরাগত ক্যাডারদের ডেকে এনে শিক্ষকদের উপর হামলা করান। এসময় উপজেলা চেয়ারম্যান এস.এম নুনু মিয়ার হস্তক্ষেপে পরিবেশ শান্ত হয়। পরে তিনি পুলিশে খবর দিলে উপজেলা প্রোগ্রাম অফিসারসহ চারজনকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছে বলে শিক্ষকরা জানিয়েছেন।
বিশ^নাথ থানার ওসি শামীম মুসা বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান সাহেবের কথায় তাৎক্ষনিকভাবে চারজনকে পুলিশ হেফাজতে আনা হয়। এরপর প্রোগ্রাম অফিসার, সুপারভাইজার ও শিক্ষকদের উপস্থিতিতে বিষয়টি থানাতেই নিস্পত্তি করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. কামরুজ্জামান বলেন, কোন শিক্ষককে এক টাকাও কম দেওয়ার সুযোগ নেই। শিক্ষকদের প্রাপ্য টাকা তাদেরকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। হামলার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে তিনি থানার অফিসার ইনচার্র্জকে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম নুনু মিয়া শুভপ্রতিদিনকে বলেন, টাকা আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ^নাথে কোন দূর্নীতিবাজের স্থান নেই।